স্কিনকেয়ারের ভাষায় “ব্যারিয়ার ড্যামেজ” বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা, যখন ত্বকের বাইরের ন্যাচারাল প্রোটেকশন লেয়ার দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, ফলে স্কিন অতিরিক্ত সেনসিটিভ হয়ে পড়ে।
আসলে আমাদের স্কিনের একটা প্রাকৃতিক প্রটেকশন লেয়ার আছে, যাকে বলা হয় স্কিন ব্যারিয়ার। এই ব্যারিয়ার স্কিনের ভেতরের ময়েশ্চার ধরে রাখে এবং বাইরের ধুলা, পলিউশন, ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে স্কিনকে রক্ষা করে।
যখন অতিরিক্ত ক্লিনজিং, হার্শ একটিভস, বেশি এক্সফোলিয়েশন, রোদে থাকা বা ভুল প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে এই লেয়ারটা দুর্বল হয়ে যায়, তখনই তাকে বলা হয় ব্যারিয়ার ড্যামেজ। তখন স্কিন সহজে পানি হারায়, খুব ড্রাই বা খসখসে লাগে, জ্বালা করে, লালচে হয়, ছোট ছোট ব্রণ ওঠে বা আগের থেকে বেশি সেনসিটিভ হয়ে পড়ে।

অনেকেই ভাবে পাতলা স্কিন মানেই ব্যারিয়ার ড্যামেজ। আসলেই কি তাই?
স্কিন পাতলা মানেই ব্যারিয়ার ড্যামেজ আসলে বিষয়টা এমন নয়। পাতলা স্কিন জেনেটিক কারণেও হতে পারে, আবার বয়স বা লং-টার্ম স্টেরয়েড/হার্শ প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলেও হতে পারে। তবে পাতলা স্কিন হলে ব্যারিয়ার ড্যামেজ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। ব্যারিয়ার ড্যামেজ আর “পাতলা স্কিন” আসলে একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, তবে দুটো এক জিনিস নয়। বারবার ব্যারিয়ার ড্যামেজ হলে স্কিন ধীরে ধীরে পাতলা ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তাই সম্পর্কটা দু’দিক থেকেই ব্যারিয়ার ড্যামেজ স্কিনকে পাতলা ভাবের দিকে নিয়ে যেতে পারে, আর পাতলা স্কিন হলে ব্যারিয়ার খুব সহজেই ড্যামেজ হয়।

তাহলে স্কিন ব্যারিয়ার ড্যামেজ হলে বোঝার উপায় কি?
স্কিন ব্যারিয়ার ড্যামেজ হলে বোঝার কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ আছে, যা খেয়াল করলে সহজেই ধরতে পারবেন যে স্কিনের প্রটেকশন লেয়ার দুর্বল হয়ে গিয়েছেঃ
1. শুষ্ক ও রুক্ষ অনুভূতি – ত্বক নিজের ময়েশ্চার ধরে রাখতে পারে না, তাই খসখসে বা ফ্লেকি হয়ে যায়।
2. সহজে লালচে বা জ্বালা হওয়া – হালকা চাপ, ঠান্ডা, রোদ বা নতুন প্রোডাক্ট এমনকি আগের ব্যবহারকৃত প্রোডাক্টেও ত্বক লাল বা সেনসিটিভ হয়ে ওঠে।
3. ব্রণ বা ইনফ্লেমেশন বৃদ্ধি – ছোট ব্রণ ধীরে ধীরে হিল হয় না বা বারবার উঠে আসে।
4. মেকআপ ঠিকমতো বসে না – ফাউন্ডেশন বা পাউডার সমানভাবে ব্লেন্ড হয় না, ফ্লেকি বা অসমান লাগে।
5. ফাইন লাইন বা ঝাপসা চেহারা – বয়সের তুলনায় সূক্ষ্ম লাইন বা টেক্সচার অসমান দেখায়।
6. হাইড্রেশন দীর্ঘস্থায়ী না হওয়া – ময়েশ্চারাইজার দ্রুত শুকিয়ে যায়, বারবার হাইড্রেশন প্রয়োজন হয়।
7. সেনসিটিভিটি বেড়ে যাওয়া – হালকা স্পর্শ বা প্রোডাক্টেও চুলকানি বা জ্বালা দেখা দেয়।
স্কিন ব্যারিয়ার ড্যামেজ হলে কি করা উচিত?
স্কিন ব্যারিয়ার ড্যামেজ হলে স্কিনকে আরাম, হাইড্রেশন আর প্রোটেকশন দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। মূলভাবে যা করা উচিত তা হলোঃ
1. জেন্টল ক্লিনজিং – হার্শ ক্লিনজার বা এক্সফোলিয়েশন এড়িয়ে হালকা, হাইড্রেটিং ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
2. হাইড্রেশন বাড়ানো – হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা সেরামাইড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার নিয়মিত এপ্লাই করুন।
3. প্রোটেকশন – সূর্যের UV রশ্মি, ধুলো ও পলিউশন থেকে স্কিনকে সুরক্ষা দিতে SPF ব্যবহার করুন।
4. হার্শ প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলা – স্টেরয়েড, অ্যালকোহল বা পাওয়ারফুল উপাদানযুক্ত প্রোডাক্ট এভোয়েড করুন।
5. স্কিন ব্যারিয়ার বুস্টার ব্যবহার করা – ceramide, niacinamide, Hyaluronic acid, Fatty Acids বা Panthenol যুক্ত প্রোডাক্ট ব্যারিয়ার রিপেয়ার করতে সাহায্য করে।
6. হেলদি লাইফস্টাইল – পর্যাপ্ত পানি, সঠিক ডায়েট এবং পর্যাপ্ত ঘুম স্কিনকে ভিতর থেকে রিকভারি করতে সাহায্য করে।
সহজভাবে বলতে গেলে, জেন্টল কেয়ার + হাইড্রেশন + প্রোটেকশন এ তিনটি মূল ফোকাসে থাকলেই ব্যারিয়ার ড্যামেজ দ্রুত রিকভার হতে শুরু করে।